Home / Religious / সূফীবাদ বা পীরতন্ত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস-২

সূফীবাদ বা পীরতন্ত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস-২

পর্বঃ ২

সুফীবাদের স্তর পরিক্রমা:

ক) শরীয়তঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় বিধানকে শরীয়ত বলা হয়। সর্বপ্রথম শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। শরীয়তের যাবতীয় বিধানের মধ্য দিয়ে সুফী তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অনুগত করেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ব্যতীত কেউ সুফী হতে পারবে না। সুফীরা এ কথাটি জোর দিয়ে বললেও তাদের আচার-আচরণ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ অনেক সুফীকেই দেখা যায় তারা মারেফতের দোহাই দিয়ে শরীয়তের বিধান মানতে আদৌ প্রস্তুত নন।

খ) তরীকতঃ সুফীদের পরিভাষায় তরীকত হচ্ছে; শরীয়তের যাবতীয় বিধান অনুশীলনের পর তাকে আধ্যাত্মিক গুরুর শরণাপন্ন হতে হবে। এ পর্যায়ে তাকে বিনা প্রশ্নে গুরুর আনুগত্য করতে হবে।

গ) মারেফতঃ সুফীদের পরিভাষায় মারেফত হচ্ছে, এমন এক স্তর যার মধ্যে বান্দাহ উপনীত হলে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে। এ স্তরে পৌঁছতে পারলে তার অন্তর আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। তখন তিনি সকল বস্তুর আসল তত্ত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেন। মানব জীবন ও সৃষ্টি জীবনের গুপ্ত রহস্য তার নিকট সপষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে।

ঘ) হাকিকতঃ সুফীদের ধারণায় তাদের কেউ এ স্তরে পৌঁছতে পারলে আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রেমের স্বাদ ও পরমাত্মার সাথে তার যোগাযোগ হয়। এটা হচ্ছে সুফী সাধনার চুড়ান্ত স্তর। এ স্তরে উন্নীত হলে সুফী ধ্যানের মাধ্যমে নিজস্ব অস্তিত্ব আল্লাহর নিকট বিলীন করে দেন। উপরোক্ত নিয়মে ভক্তদের নামকরণ করা ও স্তরভেদ করা একটি বানোয়াট পদ্ধতি। ইসলামের প্রথম যুগে এগুলোর কোন অস্থিত্ব ছিল না। পরবর্তীতে সুফীরা এগুলো নিজের খেয়াল খুশী মত তৈরী করেছে। প্রচলিত সুফীবাদের কতিপয় বিভ্রান্তি সুফীবাদের যেহেতু বিভিন্ন তরীকা রয়েছে তাই তরীকা ও মাশায়েখ অনুযায়ী তাদের রয়েছে বিভিন্ন আকীদা ও কার্যক্রম। নিম্নে আমরা অতি সংক্ষেপে তাদের কতিপয় আকীদা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করবো। তবে এখানে মনে রাখতে হবে যে, সুফীবাদের সকল সমর্থকের ভিতরেই যে নিম্নের ভুল- ভ্রান্তিগুলো রয়েছে তা বলা কঠিন।

১) ﺍﻟﺤﻠﻮﻝ হুলুল এবং ﻭﺣﺪﺓ ﺍﻟﻮﺟﻮﺩ ওয়াহদাতুল উজুদঃ সুফীদের যে সমস্ত ইসলাম বিরোধী আকীদাহ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টি আকীদাহ (বিশ্বাস) হচ্ছে, ﻋﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﺤﻠﻮﻝ ﻭﺍﻻﺗﺤﺎﺩ আকীদাতুল হুলুল ওয়াল ইত্তেহাদ। সুফীদের কতিপয় লোক হুলুল তথা সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর অবতরণে বিশ্বাস করে। হুলুল-এর সংজ্ঞায় আলেমগণ বলেনঃ হুলুল এর তাৎপর্য হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কতিপয় সৃষ্টির মধ্যে অবতরণ করেন এবং তার সাথে মিশে একাকার হয়ে যান।

যেমন খৃষ্টানদের ধারণা যে, ঈসা ইবনে মারইয়ামের মাধ্যমে  আল্লাহ অবতরণ করেছিলেন। সুফীদের কতিপয় লোকের বিশ্বাস হচ্ছে প্রখ্যাত সুফী সাধক মানসুর হাল্লাজ এবং অন্যান্য কতিপয় সুফী সাধকের মধ্যে আল্লাহ অবতরণ করেছেন। নাউযুবিল্লাহ। এটি যে একটি কুফরী বিশ্বাস তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ) ﻭَﻣَﺎ ﻗَﺪَﺭُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﻖَّ ﻗَﺪْﺭِﻩِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﻗَﺒْﻀَﺘُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻤﺎﻭَﺍﺕُ ﻣَﻄْﻮِﻳَّﺎﺕٌ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻤَّﺎ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ( তারা আল্লাহ্কে যথার্থরূপে বুঝে নি। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে। (সূরা যুমারঃ ৬) মানসুর হাল্লাজকে তার যুগের খলীফা চারটি কারণে হত্যা করেনঃ

 ১) ﺃﻧﺎ ﺍﻟﺤﻖ আনাল হক্ক বলার কারণে তথা রুবুবীয়াত ও উলুহীয়াতের দাবী করার কারণে।

) ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ যাদু চর্চা করার কারণে।

) শরীয়তের ফরজ বিষয়সমূহ অস্বীকার করার কারণে। মানসুর হাল্লাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি হজ্জ করতে চাইলে সে যদি তার বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করে হজ্জের মৌসুমে তার তাওয়াফ করে তাতেই যথেষ্ট হবে।

) কারামেতা তথা বাতেনী সমপ্রদায়ের প্রতি আহবান জানানোর কারণে। কারামেতা সমপ্রদায় প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বললেও তারা ছিল মূলতঃ গোপনে অগ্নিপূজক। এই সমপ্রদায় ৩১৯ হিজরী সালে কাবা ঘরে হামলা চালিয়ে হাজীদেরকে অকাতরে হত্যা করেছিল, যমযম কূপ ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং হাজরে আসওয়াদ চুরি করে নিয়ে ছিল। ২০ বছর পর্যন্ত মুসলিমগণ হাজরে আসওয়াদ বিহীন কাবা ঘরের তাওয়াফ করেছে। অপর পক্ষে সুফীদের আরেক দল ওয়াহদাতুল উজুদে বিশ্বাসী। ওয়াহ্দাতুল উজুদের এর তাৎপর্য হচ্ছে ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻻﺗﺤﺎﺩ ﻓﻤﻌﻨﺎﻩ ‏( ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺼﻮﻓﻴﺔ‏) ﺃﻥ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﻫﻮ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ সৃষ্টি এবং স্রষ্টা একই জিনিষ। অর্থাৎ সৃষ্টিজীব এবং আল্লাহ তাআলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, উভয়ই এক ও অভিন্ন। ইবনে আরাবী এ মতেরই সমর্থক ছিল। তার মতে পৃথিবীতে যা আছে সবই মাবুদ। অর্থাৎ সবই সৃষ্টি এবং সবই মাবুদ। এ অর্থে কুকুর, শুকর, বানর এবং অন্যান্য নাপাক সৃষ্টিও মাবুদ হতে কোন বাঁধা নেই। সুতরাং তার মতে যারা মূতি পূজা করে তারা আল্লাহরই এবাদত করে। (নাউযুবিল্লাহ) ইবনে আরাবীর মতেঃ ﺇﻥ ﺍﻟﻌﺎﺭﻑ ﺍﻟﻤﻜﻤﻞ ﻫﻮ ﻣﻦ ﻳﺮﻯ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻷﻭﺛﺎﻥ ﺷﻲﺀ ﻭﺍﺣﺪ অর্থাৎ পরিপূর্ণ মারেফত হাসিলকারীর দৃষ্টিতে আল্লাহর এবাদত ও মূর্তিপূজা একই জিনিস। ইবনে আরাবী তার কবিতায় বলেনঃ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﺭﺏ ﻭﺍﻟﺮﺏ ﻋﺒﺪ * ﻳﺎ ﻟﻴﺖ ﺷﻌﺮﻱ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻜﻠﻒ ﺇﻥ ﻗﻠﺖ ﻋﺒﺪ ﻓﺬﻟﻚ ﺣﻖ * ﺃﻭ ﻗﻠﺖ ﺭﺏ ﻓﺄﻧﻰ ﻳﻜﻠﻒ বান্দাই প্রভু আর প্রভুই বান্দা। আফসোস যদি আমি জানতাম, শরীয়তের বিধান কার উপর প্রয়োগ হবে। যদি বলি আমি তাঁর বান্দা তাহলে তো ঠিকই। আর যদি বলি আমিই রব তাহলে শরীয়ত মানার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? উপরোক্ত কারণ এবং আরও অসংখ্য কারণে আলেমগণ ইবনে আরাবীকে গোমরাহ বলেছেন। সৃষ্টি এবং স্রষ্টা কখনই এক হতে পারে না। আল্লাহ ব্যতীত বাকী সকল বস্তু হচ্ছে সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ )ﺑَﺪِﻳﻊُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺃَﻧَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻟَﻪُ ﻭَﻟَﺪٌ ﻭَﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻦْ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ( তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহ্র পুত্র হতে পারে, অথচ তার কোন সঙ্গিনী নেই? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ। (সূরা আনআমঃ ১০১)

কুরআন ও সহীহ হাদীছে দিবালোকের মত পরিস্কার করে বলা আছে যে, মহান আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত, তার গুণাগুণ সৃষ্টি জীবের গুণাবলী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের বিরাট সংখ্যক মুসলিম ওয়াহ্দাতুল উজুদে বিশ্বাসী। তাবলীগী নিসাব ফাযায়েলে আমাল বইয়ে গাঙ্গুহী তার মোরশেদ হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কীর খেদমতে লিখিত এক চিঠিতে বলেনঃ ——-অধিক লেখা বে-আদবী মনে করিতেছি। হে আল্লাহ! ক্ষমা কর, হজরতের আদেশেই এই সব লিখিলাম, মিথ্যাবাদী, কিছুই নই, শুধু তোমরাই ছায়া, আমি কিছুই নই, আমি যাহা কিছু সব তুমিই তুমি। (দেখুনঃ ফাযায়ে আমাল, দ্বিতীয় খন্ড, ১৮৫ পৃষ্ঠা) এই কথাটি যে একটি কুফরী কথা তাতে কোন সন্দেহ নেই। আসুন আমরা এই বাক্যটির ব্যাপারে আরব বিশ্বের আলেমদের মূল্যায়ন জানতে চেষ্টা করি। তাদের কাছে উপরের বাক্যটি এভাবে অনুবাদ করে পেশ করা হয়েছিল। অনুবাদটি শুনে তারা বলেছেনঃ ﺷﺮﻙ ﻣﺤﺾ অর্থাৎ এটি শির্ক ছাড়া অন্য কিছু নয়। উপরোক্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসের খন্ডনঃ ইসলামের প্রধান দুটি মূলনীতি এবং ইসলামী শরীয়তের দুটি মূল উৎস কুরআন ও সহীহ হাদীছে সুস্পষ্ট ভাষায় আল্লাহর পরিচয়, গুণাগুণ এবং তাঁর অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে মহান রাব্বুল আলামীন নিজেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেছন এবং তাঁর রাসূলও অনেক সহীহ হাদীছে তাঁর পরিচয় বর্ণনা করেছেন। এ থেকে জানা যায় যে আল্লাহ তাআলা আকাশে এবং আরশে আযীমের উপর সমুন্নত। বেশ কিছু আয়াত ও হাদীছে সরাসরি আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। আবার অনেক আয়াত ও হাদীছের মাধ্যমে আকাশের উপরে হওয়ার কথা জানা যায়। মূলতঃ উভয়ের মাঝে কোন দ্বন্ধ নেই। কেননা আল্লাহর আরশ হচ্ছে সাত আকাশের উপর। আল্লাহ তাআলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ আল্লাহ তাআলা যে আকাশের উপরে আছেন, কুরআনে এর অনেক দলীল রয়েছে:

১) আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ) ﺃَﺃَﻣِﻨﺘُﻢْ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﺴِﻒَ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻷَﺭْﺽَ ( তোমরা কি নিরাপত্তা পেয়ে গেছো যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দিবেন না? (সূরা মুল্কঃ ১৬)

২) আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﻳَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ ﻣِﻦْ ﻓَﻮْﻗِﻬِﻢْ ( তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে আছেন। (সূরা নাহ্লঃ ৫০)

৩) আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﺼْﻌَﺪُ ﺍﻟْﻜَﻠِﻢُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺐُ ﻭَﺍﻟْﻌَﻤَﻞُ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺢُ ﻳَﺮْﻓَﻌُﻪُ ( তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে। (সূরা ফাতিরঃ ১০)

৪) আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ )ﺗَﻌْﺮُﺝُ ﺍﻟْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺍﻟﺮُّﻭﺡُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ( ফেরেশতা এবং রূহ (জিবরীল) তাঁর দিকে উর্ধ্বগামী হয়। (সূরা মাআরেজঃ ৪)

৫) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﻳُﺪَﺑِّﺮُ ﺍﻷَﻣْﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻷَﺭْﺽِ ( আল্লাহ্ তাআলা আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন। (সূরা সিজদাহঃ ৫)

৬) আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ )ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺎﻋِﻴﺴَﻰ ﺇِﻧِّﻲ ﻣُﺘَﻮَﻓِّﻴﻚَ ﻭَﺭَﺍﻓِﻌُﻚَ ﺇِﻟَﻲَّ ( যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব। অতঃপর তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নিবো। (সূরা আল- ইমরানঃ ৫৫) আল্লাহ্ তাআলাউপরে আছেন- এ মর্মে আরো অনেক দলীল রয়েছে।

আল্লাহ্ তাআলা আসমানে সমুন্নত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীছসমূহ আল্লাহ্ তাআলা উপরে আছেন- হাদীছ শরীফে এ ব্যাপারে অগণিত দলীল রয়েছে।

১) আওআলের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ( ﻭﺍﻟﻌﺮﺵ ﻓﻮﻕ ﺫﻟﻚ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻓﻮﻕ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﻋَﻠﻴْﻪِ ) তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন। আওআলের হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) বলেনঃ আমরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খোলা ময়দানে বসা ছিলাম। তখন আমাদের মাথার উপর দিয়ে একটি মেঘখন্ড অতিক্রম করার সময় তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কী? আমরা বললামঃ এটি একটি মেঘের খন্ড। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের দূরত্ব কতটুকু? আমরা বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ উভয়ের মধ্যে রয়েছে পাঁচশত বছরের দূরত্ব। এমনি প্রত্যেক আকাশ ও তার পরবর্তী আকাশের মধ্যবতী দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশত বছরের পথ। এভাবে সপ্তম আকাশের উপর রয়েছে একটি সাগর। সাগরের গভীরতা হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান। সাগরের উপরে রয়েছে আটটি জংলী পাঠা। তাদের হাঁটু থেকে পায়ের খুর পর্যন্ত দূরত্ব আকাশ ও যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান। তারা আল্লাহর আরশ পিঠে বহন করে আছে। আরশ এত বিশাল যে, তার উপরের অংশ থেকে নীচের অংশের দূরত্ব হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান। আর আল্লাহ্ তাআলা হচ্ছেন আরশের উপরে।

২) সাদ বিন মুআয যখন বনী কুরায়যার ব্যাপারে ফয়সালা দান করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তুমি তাদের ব্যাপারে সেই ফয়সালা করেছো, যা সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ্ তাআলা করেছেন।

৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জনৈক দাসীকে বললেনঃ আল্লাহ্ কোথায়? দাসী বললঃ আকাশে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাসীর মালিককে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে মুমিন।

৪) আল্লাহ্ তাআলা আকাশের উপরে। মিরাজের ঘটনায় বর্ণিত হাদীছগুলো তার সুস্পষ্ট দলীল।

৫) পালাক্রমে ফেরেশতাদের দুনিয়াতে আগমণের হাদীছেও আল্লাহ্ তাআলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীল রয়েছে। হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে আগমণ করে থাকে। তারা ফজর ও আসরের নামাযের সময় একসাথে একত্রিত হয়। অতঃপর তোমাদের কাছে যে দলটি ছিল, তারা উপরে উঠে যায়।

মহান আল্লাহ জানা সত্ত্বেও তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেনঃ আমরা তাদেরকে নামায অবস্থায় ছেড়ে এসেছি এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন তারা নামাযেই ছিল।

৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ হতে একটি খেজুর পরিমাণ সম্পদ দান করে, আর আল্লাহর নিকট তো পবিত্র ব্যতীত কোন কিছুই উর্ধ্বমুখী হয় না, আল্লাহ্ ঐ দান স্বীয় ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা দানকারীর জন্য প্রতিপালন করতে থাকেন। যেভাবে তোমাদের কেউ নিজের ঘোড়ার বাচ্চাকে প্রতিপালন করে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঐ দান পাহাড় সমুতল্য হয়ে যায়।

৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ ( ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻷَﻣْﺮَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺿَﺮَﺑَﺖِ ﺍﻟْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔُ ﺑِﺄَﺟْﻨِﺤَﺘِﻬَﺎ ﺧُﻀْﻌَﺎﻧًﺎ ﻟِﻘَﻮْﻟِﻪِ ﻛَﺎﻟﺴِّﻠْﺴِﻠَﺔِ ﻋَﻠَﻰ ﺻَﻔْﻮَﺍﻥٍ ) আল্লাহ তাআলাযখন আকাশে কোন বিষয়ে ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতাগণ আল্লাহর উক্ত ফয়সালার প্রতি অনুগত হয়ে তাদের পাখাসমূহ এমনভাবে নাড়াতে থাকেন যার ফলে শক্ত পাথরে শিকল দিয়ে প্রহার করলে যে ধরণের আওয়াজ হয় সে রকম আওয়াজ হতে থাকে। আল্লাহ তাআলা আকাশের উপরে আছেন বাতিল ফির্কা ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করেনি। আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আরশের উপর সমুন্নত।

১) আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ )ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ( দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। (সূরা তোহাঃ ৫)

২) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓِﻲ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺛُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ( নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি আসমান- কুরবানীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। (সূরা আরাফঃ ৫৪)

৩) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ )ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺭَﻓَﻊَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋَﻤَﺪٍ ﺗَﺮَﻭْﻧَﻬَﺎ ﺛُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ( আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী স্থাপন করেছেন বিনা স্তম্ভে। তোমরা এটা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। (সূরা রাদঃ ২)

৪) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﺛُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺎﻥُ ( অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। (সূরা ফুরকানঃ ৫৯)

৫) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ )ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻭَﻣَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺛُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ( আল্লাহই আসমান-যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সকল বস্তু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। (সূরা সাজদাহঃ ৫৪)

৬) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ) ﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓِﻲ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺛُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ( আল্লাহই আসমান-যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন”। (সূরা হাদীসঃ ৪)

চলমান………

About ashrafuzzaman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

xu hướng thời trangPhunuso.vnshop giày nữgiày lười nữgiày thể thao nữthời trang f5Responsive WordPress Themenha cap 4 nong thongiay cao gotgiay nu 2015mau biet thu deptoc dephouse beautifulgiay the thao nugiay luoi nutạp chí phụ nữhardware resourcesshop giày lườithời trang nam hàn quốcgiày hàn quốcgiày nam 2015shop giày onlineáo sơ mi hàn quốcshop thời trang nam nữdiễn đàn người tiêu dùngdiễn đàn thời tranggiày thể thao nữ hcmphụ kiện thời trang giá rẻ

www.000webhost.com